নখের অসুখ

nokh
ডা. রাশেদ মোঃ খান
ত্বক ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
সোহরাওয়ার্দি হাসপাতাল, ঢাকা
নখ ত্বকেরই অংশ প্রোটিন দিয়ে তৈরি। নখ প্রতিদিনই বাড়ে। প্রতি মাসে ১/৮ ইঞ্চি পরিমাণ বড় হয়। পায়ের নখ হাতের নখের তুলনায় ধীরে বড় হয়। নখ সুন্দর রাখার জন্য নখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
শারীরিক নানা রকম অসুখ যেমন ফুসফুস বা হার্টের অসুখ, রক্তস্বল্পতা ইত্যাদি কারণে নখের পরিবর্তন হয়।
নখে সাদা দাগ
ফাঙ্গাসের আক্রমণে নখে সাদা দাগ হতে পারে। এছাড়া নখের পাশের ত্বক কোনও কারণে আক্রান্ত হলে নখে সাদা দাগ হতে পারে। মাসখানেকের মাঝে সাদা দাগ আপনা আপনি চলে না গেলে ত্বক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
নখ ভেঙে যাওয়া
শারীরিক অসুখ এবং অনেক বাহ্যিক কারণে নখ ভেঙে যেতে পারে। খুব বেশি সাবান, নেলপলিশ ব্যবহারের কারণে নখ ভাঙতে পারে।
অনেকের নখ মোটা হয়ে হলুদ হয় এবং খসে পড়ে। এটি ডার্মাটোফাইট নামক এক ধরনের ছত্রাক। এতে নখের সম্মুখ অংশ এবং পেছনের চামড়ার সঙ্গে লাগানো অংশ আক্রান্ত হয়।
ভেঙে যাওয়া নখের যত্ন
♦অতিরিক্ত সাবান, নেলপলিশ ব্যবহার করবেন না।
♦সাবান ব্যবহারের পরে কোল্ড ক্রিম ব্যবহার করবেন।
♦ল্যাকটিক এসিড ও ইউরিয়াযুক্ত ক্রিম প্রতি রাতে ব্যবহার করবেন।
♦১৫ দিন অন্তর হালকা গরম অলিভ তেলে ১৫ মিনিট আঙুল ডুবিয়ে রাখুন। এছাড়া প্রতি রাতে হাতের নখে ও আঙুলে অলিভ তেল মালিশ করুন।
♦নেলপলিশ এবং রিমুভার ব্যবহারের পরে আঙুল ও নখে অলিভ তেল লাগাবেন।
♦প্রচুর প্রোটিনযুক্ত খাবার খাবেন, প্রতিদিন দুধ বা দই খাবেন।
♦ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাবেন।
♦পায়ের নখ ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া : এটা সাধারণ একটা সমস্যা। নখ বড় হওয়ার সময় ভেতরের দিকে ঢুকে গেলে এমন হয়। এতে করে ওই জায়গা ফুলে যায়। লাল হয়ে মরেও প্রচন্ড ব্যথা হয়।   ইনফেকশনের কারণে এমন হয়।
♦যথাযথ ফিট হয় এমন জুতা পরবেন।
♦অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট নখের কোণে লাগাবেন।
♦নখের কোণ যদি ব্যথা করে বা ফুলে যায় তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।
নখের ক্যান্সার
নখেও ক্যান্সার বা মেলানোমা হতে পারে। এতে নখে লম্বা লম্বা কালো দাগ পড়ে। এক্ষেত্রে অতিসত্বর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নখের অসুখগুলো সাধারণ এবং চিকিৎসা নিলেই ভালো হয়ে যায়।
নখের পেছনের অংশ ফুলে যাওয়া
এটি আমাদের দেশের খুব পরিচিত রোগ। যারা পানির সংস্পর্শে বেশি আসে অর্থাৎ রান্না-বান্না বা কাপড় কাচে যেমন- গৃহবধূ, তাদের এটি বেশি হয়। এটি ক্যানডিডা নামক ছত্রাক দিয়ে হয় বলে একে ক্যানডিডা প্যারোনাইকিয়া বলে। তবে হঠাৎ ব্যাকটেরিয়া দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়। চিকিৎসা চলাকালীন রোগীকে কয়েক দিন পানির স্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। ফলে নখ নিচের ত্বকের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে লেগে যায় এবং ব্যথা ও ফোলা কমে যায়। এক্ষেত্রে অ্যান্টিফাঙ্গাল ট্যাবলেট খেতে হয় এবং মলম লাগাতে হয়।
ত্বকের ভেতর নখ ঢুকে গেলে
যে কোনও নখে হতে পারে তবে পায়ের বুড়ো আঙুলে বেশি হয়। একে ইনগ্রোয়িং টো নেইল বলে। এটিও অত্যন্ত ব্যথাযুক্ত এবং রোগী দীর্ঘ সময় ধরে ভোগে। এ সমস্যার সমাধানে প্রথমত করণীয় হচ্ছে, নখ ছোট কর বা মুড়িয়ে না কেটে একটু বড় রাখতে হবে এবং জুতা পারলে নখ যেন জুতায় না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নখের ভেতর তুলা চাপ দিয়ে রাখলে নখ একটু উঁচুতে থাকে। এক্ষেত্রে সার্জারি বা ক্রায়োসার্জারি লাগে।
মোটা নখ
এটি জন্মগত অসুখ। একে অলিগোগ্রাইফোসিস বলে। ফেনোকটারাইজেশন করে এর
চিকিৎসা করা হয়। এতে নেইল ম্যাট্রিক্স বা
নখ যেখান থেকে তৈরি হয় তা ধ্বংস করা
হয়। নখের কোনও অসুখকে অবহেলা করতে নেই।

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: