সমস্যা যখন ব্রণ

 

aaa
ডা. দিদারুল আহসান
১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের ব্রণ একটি সাধারণ অসুখ। তবে যে কোনও বয়সেই ব্রণ হতে পারে।
বয়ঃসন্ধির সময় হরমোনের ক্ষরণ মাত্রায় ভারসাম্যের অভাবে ত্বকের তেলগ্রন্থি ও সেবাম ক্ষরণ বেড়ে যায়। এতে লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায় ও ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হয়। এভাবে জীবাণুর বিষক্রিয়ায় ত্বকে ব্রণের সৃষ্টি হয়।
কী কারণে ব্রণ বেড়ে যায়
গরমকালে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। বেশি ঘামলে সেবেশাস ও তৈলগ্রন্থির নালী বন্ধ হয়ে ব্রণ হতে পারে। এ ছাড়া নানা রকম কসমেটিকের কারণে ব্রণ হতে পারে। তেলতেলে চুল ও মাথার খুশকি থেকে ব্রণ হওয়ার আশংকা থাকে। মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলেও ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তাছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাবের সঙ্গেও ব্রণের সম্পর্ক রয়েছে।
ব্রণ দেখতে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন ছোট ছোট গোল ফুসকুড়ি, লালচে ছোট ছোট গোটা, আবার পুঁজপূর্ণ বড় বড় চাকাও হতে পারে। ব্রণ টিপলে ভাতের দানার মতো বের হয়ে আসে। অনেকের ব্রণ খুব যন্ত্রণাদায়ক হয়। ব্রণের ফলে ত্বকে ছিদ্র দেখা দিতে পারে। কারও কারও মুখে ব্রণের তীব্রতা বেশি থাকলে তা এবড়োথেবড়ো দেখায়। ব্রণ বেশি টিপলে ত্বকে কালো দাগ সৃষ্টি হয়।
দুষ্ট এ রোগটি সব সময়ই নিরীহ হোয়াইট হেড বা ব­্যাকহেড হিসেবেই থাকে না, মাঝে মধ্যে লালচে হয়, ব্যথাও করে। ব্রণের দাগ অবশ্য দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। চামড়ার নিচে থাকে তৈলগ্রন্থি আর তৈল নিঃসারক নালী। এই নালী ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনও কারণে বন্ধ হয়ে গেলে নালীর মধ্যে নিঃসৃত পদার্থ জমা হয়ে ব্রণ তৈরি করে।
ব্রণের কারণ
ষ বয়ঃসন্ধিকালে এন্ড্রোজেন হরমোনের আধিক্য
ষ মাসিক বা গর্ভাবস্থায় হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন
ষ ঘন ময়েশ্চারাইজিং লোশন বা কড়া মেকআপ
ষ অধিক আবেগ
ষ আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন সামুদ্রিক শৈবাল, গরুর কলিজা, রসুন ইত্যাদি
ষ কোরোসিন বা কয়লা (যেমন বাসার ফার্নিচারের বার্নিশ)
ষ একদিকে কাত হয়ে ঘুমানো বা হাতের ওপর মুখ রেখে ঘুমানো
ষ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, স্টেরয়েড, খিঁচুনি বা মানসিক রোগের ওষুধ।
ব্রণের অনেক কারণ আছে। তবে অকারণে ভয় পাওয়া ঠিক নয়। যেমন ধরুন আঠালো খাবার, চকলেট কিংবা যৌনতা কিন্তু ব্রণ সৃষ্টি করে না।
ব্রণ হলে কী করবেন
ষ দিনে দুই-তিনবার হালকা সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোবেন।
ষ ব্রণে হাত লাগাবেন না।
ষ তেল ছাড়া অর্থাৎ ওয়াটার বেসড মেকআপ ব্যবহার করবেন।
ষ মাথা খুশকিমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন।
ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং নিজের জন্য আলাদা তোয়ালে রাখুন।
ষ রাতে ঠিকমতো ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
ষ মানসিক চাপ পরিহার করুন।
ষ প্রচুর পরিমাণে ফল, সবজি খান ও প্রচুর পানি পান করুন।
ব্রণ হলে কী করবেন না
ষ রোদে বেরুবেন না, রৌদ্র এড়িয়ে চলুন।
ষ তেলযুক্ত ক্রিম বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না।
ষ ব্রণে হাত লাগাবেন না। ব্রণ খুঁটবেন না।
ষ চুলে এমনভাবে তেল দেবেন না যাতে মুখটাও তেলতেলে হয়ে যায়।
ষ অতিরিক্ত তেল, ঘি, মশলা খাবেন না।
কেন ব্রণের চিকিৎসা করাবেন
ব্রণ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা না করালে অনেক সময় ব্রণ ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ত্বকে গভীর প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। আর ব্রণ হলে চেহারা খারাপ দেখানোর কারণে অনেকে হতাশ হয়ে পড়েন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্রণের জন্য অন্যের কথা শুনে বা নিজের পছন্দসই কোনও ওষুধ লাগাবেন না। কতটা বেশি ব্রণ হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে খাবার ও লাগানোর জন্য এন্টিবায়োটিক ওষুধ দেয়া হয়। তবে ব্রণের চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ। তাই ধৈর্য ধরতে হবে আপনাকে। হঠাৎ চিকিৎসা পদ্ধতি বা ডাক্তার বদলাবেন না।
ব্রণের চিকিৎসা
ষ সব ধরনের প্রসাধনী বর্জন করতে হবে। নখ দিয়ে ব্রণ খোঁটাখুঁটি করা যাবে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্রণ আপনা-আপনি সেরে যায়।
ষ দিনে দুই থেকে তিনবার ফেসওয়াশ সাবান দিয়ে মুখ ধুতে হবে। অনেকে ব্রণ হলে মুখে সাবান ব্যবহার বন্ধ করে দেন অথচ এ সময়ে সাবান দিয়ে মুখ ধুলে উপকার হয়, কেননা সাবান মুখের তৈলাক্ততা দূর করে এবং লোককূপ পরিষ্কার রাখে।
ষ রাতে ঘুমানোর সময় ভালো করে মুখ ধুয়ে শুধু ব্রণগুলোর ওপর চিকিৎসকের পরামর্শমতো জেল লাগানো যেতে পারে। দু’একদিন জেল ব্যবহারের পর ঠিক হয়ে যায়। চুলকানি বা লাল ভাব বেশি হলে ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে।
ষ কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তা দূর করতে হবে। ঝাল-মশলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সুষম সহজপাচ্য হালকা খাবার, শাকসবজি, ফলমূল এবং প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। পুষ্টিহীনতায় ভুগলে প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
ষ মাথায় খুশকি থাকলে অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে খুশকি দূর করতে হবে। ব্রণের তীব্রতা বেশি হলে চিকিৎসকের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করতে হবে।
লেখক : চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ
আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, মোবা:০১৭১৫৬১৬২০০

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: