ত্বকের পুষ্টিকথা

আখতারুন নাহার আলো
প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা, বারডেম হাসপাতাল
ত্বকের যত্নের ব্যাপারে নারী-পুরুষ উভয়েই বর্তমানে সচেতন হয়ে উঠছেন। ক্রিম, তেল, সাবান, ফেসওয়াশ, পাউডার ইত্যাদির বিজ্ঞাপন রেডিও, টিভি ও পত্রপত্রিকায় সবসময় প্রচারিত হচ্ছে। রং ফর্সা করা, কালো দাগ ও ব্রণ দূর করা কোনও কিছুই যেন আর অসম্ভব নয়! অথচ ত্বকের সৌন্দর্য বা যত্নের ব্যাপারে আমাদের ধারণা অনেকাংশেই ভুল। স্বাস্থ্য সচেতন হলে ত্বক এমনিতেই সুন্দর থাকার কথা। আপনি যে সুস্থ আছেন সেটা আপনার চমৎকার ত্বক দেখেই বোঝা সম্ভব। সুন্দর ত্বক স্বাস্থ্যের লক্ষণ। সুষম খাদ্যগ্রহণ, প্রচুর বিশুদ্ধ পানি ও নিয়মিত ব্যায়াম, অধূমপায়ী হওয়া সুন্দর ত্বকের পূর্বশর্ত। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আপনার ত্বক কিছুটা হলেও বুড়িয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের ত্বকের রং নির্ভর করে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের ওপর। মেলানিন কম থাকলে রং ফর্সা হয় এবং বেশি থাকলে ত্বক কালো হয়। কিন্তু যাদের ত্বকে মেলানিন কম থাকে অর্থাৎ যারা ফর্সা রঙের অধিকারী তাদের ত্বকের নানা সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। ত্বকের বলিরেখা, কালো দাগ, রোদে পোড়া দাগ থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে বেশি।
খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ত্বকের লাবণ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন ত্বকের অত্যন্ত জরুরি উপাদান। রঙিন সবজি ও ফলে থাকে বিটা ক্যারোটিন। এছাড়া ব্রণের চিকিৎসায় ভিটামিন এ সাপি­মেন্ট দেয়া হয়। বাকি দুটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অর্থাৎ ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ইও ত্বকের জরুরি উপাদান। ভিটামিন ই ত্বকের বলিরেখা দূর করে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না। প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ই আমাদের প্রয়োজন। রূপ-লাবণ্য ধরে রাখতে ভিটামিন-সিরও তুলনা নেই। কাঁচা সবজি ও টক ফলে পাবেন ভিটামিন সি। প্রতিদিন আমাদের প্রয়োজন ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি। কিছু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস ত্বকের জন্য উপকারী। যেমন- সিলিকন, সেলেনিয়াম ও কপার। সিলিকন ত্বক কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের জন্য সিলিকন প্রয়োজন। সিলিকন সবজি, খাদ্যশস্য ও সামুদ্রিক মাছে পাওয়া যায়। এ ছাড়া কপার ত্বকের কোলাজেন, ইলাস্টিন ও মেলানিন তৈরিতে সহায়তা করে। সেলেনিয়াম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ও রোদে পোড়া ত্বককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। প্রতিদিন আমাদের ১০০ মাইক্রোগ্রাম সেলেনিয়াম প্রয়োজন। ভিটামিন সমৃদ্ধ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্রিম ব্যবহারেও ভালো ফল পাওয়া যায়। মেছতার দাগের জন্য হাইড্রোকুইননযুক্ত ক্রিম উপকারী। ব্রণের জন্য ট্রিটিনইন রেটিনে জেল ভালো কাজ দেয়। এছাড়া ইদানীং আলফা হাইড্রক্সি এসিডযুক্ত ক্রিম পাওয়া যায়। এ ক্রিমের গুণাগুণ অনেক। ত্বকের মরা কোষ সরিয়ে দেয় আলফা হাইড্রক্সি। এতে ত্বক সতেজ হয়ে ওঠে। এছাড়া রোদে পুড়া ত্বক, বলিরেখা, ব্রণ, যে কোনও সমস্যার জন্য আলফা হাইড্রক্সি ভালো কাজ দেয়। স্বাভাবিকভাবে নানারকম ফল যেমন- আনারস, কমলা, আপেল, আঙ্গুর এগুলোতে আলফা হাইড্রক্সি থাকে। ত্বকে যে কোনও ক্রিম-লোশন ব্যবহারের আগে ডার্মাটোলোজিস্টের পরামর্শ নিলে ভালো। চটকদার বিজ্ঞাপনে উৎসাহী হয়ে ত্বকে কিছু ব্যবহারের আগে একটু সময় নিন।
সুন্দর ত্বকের জন্য রোদ এড়িয়ে চলা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান না করা, প্রচুর পানি পান ও নিয়মিত ব্যায়াম করা প্রয়োজন। আশা করি সচেতনতার মাধ্যমে আমাদের ত্বক হবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, লাবণ্যময়।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: